ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষি ব্যাংকে ঋণ না দেয়ায় অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি!! শ্রমিকদের বকেয়া সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ না করলে সোমবার থেকে বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-২৩ ২১:২৬:৫২
কৃষি ব্যাংকে ঋণ না দেয়ায় অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি!! শ্রমিকদের বকেয়া  সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ না করলে সোমবার থেকে বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য  বন্ধ কৃষি ব্যাংকে ঋণ না দেয়ায় অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি!! শ্রমিকদের বকেয়া সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ না করলে সোমবার থেকে বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ



সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ


বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক উর্ধতন কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করে ঋণ না দেওয়ার কারণে অর্থ সংকট মাঝে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি । শ্রমিকরা সাপ্তাহিক বকেয়া মজুরি না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাগান কর্তৃপক্ষ উপর । বকেয়া সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ না করলে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য চা শিল্প বন্ধ থাকবে বলে হুশিয়ার করে দিচ্ছেন শ্রমিকরা ।

 জানাযায় , বাংলাদেশের চা খাত এখন বহুমুখী সংকটে মধ্যে রয়েছে । বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ঋণ না দেয়ার কারণে অর্থ সংকটের কারণে চা শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি ও স্টাফদের বেতন - ভাতা, ঈদ বোনাস , পূজা উৎসব বোনাস সহ অন্যান্য খরচ দিতে পারছে না বাগান কর্তৃপক্ষ হিমসিম খাচ্ছে । ফলে দেউন্দি টি কোম্পানি মালিকানাধীন বিএনপির  সাবেক  পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুর্শেদ খান সহ অন্যান্য মন্ত্রী জড়িত রয়েছেন বলে শুনা জায়। দেউন্দি টি কোম্পানির অধীনে হবিগঞ্জ জেলার  লাল চান্দ , নোয়াপাড়া , দেউন্দি চা বাগান এবং মৌলভীবাজার জেলার মিরথিংগা চা বাগান গত সপ্তাহে সাপ্তাহিক মজুরি ও  অন্যান্য সুযোগ সুবিধা না দেওয়ায় বাগান কর্তৃপক্ষ উপর অসন্তোষ প্রকাশ করে ।

তাদের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করলে চা বাগান বন্ধ থাকবে । এতে চা শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থাপনা নড়বড়ে হয়ে পড়বে । বাগান সূত্রে জানা যায় , ২০২৪ সালে ২৭ জানুয়ারি ভোর সকালে লাল চান্দ চা বাগানে বিদ্যুৎ শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে চা কারখানা মেশিন , সরঞ্জাম সহ গুদামের চা পাতা বস্তা পুড়ে ছাই হয়ে যায় । এতে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি টাকা । এর মধ্যে গত ২০২৪ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত কোম্পানির গভীর রাতে ধাপে ধাপে মোট  ১৩ টি বড় ট্রান্সফরমার মালামাল  চুরি করে নিয়ে যায় কিন্তু এর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অর্ধ কোটি টাকা ।

এর পর থেকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ৪০ কোটি টাকা মধ্যে ৩৭ কোটি টাকা দেউন্দি  টি কোম্পানিকে দেওয়ার জন্য মঞ্জুর হলে চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ২৫ কোটি টাকা দিচ্ছে চট্টগ্রাম কৃষি ব্যাংক  থেকে কিন্তু বাকি ১২ কোটি টাকা ঋণ পাওনা গুলো কৃষি ব্যাংকের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ দেয় দিচ্ছি টালবাহানা শুরু করলে বাগান কর্তৃপক্ষ পড়ছে নানা সমস্যা মহা বিপাকে। অর্থ না দেওয়ার কারণে দেউন্দি টি কোম্পানি অর্থ নৈতিক দৈন্যদশা কারণে চা বাগানের কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ রয়েছে । 

  বাকি গুলো চা কারখানা চলছে স্বল্প উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে । তবে কৃষি ও শিল্প উভয় মাধ্যমে চা উৎপাদন হলেও দেশের চা বাগান গুলো রয়েছে বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে । শ্রমঘন খাতটির উদ্যোক্তরা শিল্পের মতো। নোয়াপাড়া চা বাগান ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ জানান , চা শ্রমিকদের যখন ১৩৫ - ১৫০ টাকা দৈনিক  মজুরি ছিল। সেই সময় কৃষি ব্যাংক ৬০ - ৭০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে কিন্তু এখন কৃষি ব্যাংক ঋণ দিতে টালবাহানা শুরু করছে। বর্তমানে চা শ্রমিকের মজুরি ১৮৭ টাকা ৪২ পয়সা হওয়ায় বাগান হিমশিম খাচ্ছে এবং তাদের মজুরি বাড়লে ও চা-পাতা মূল্য বাড়েনি। ফলে কৃষি ব্যাংকে উর্ধতন গাফিলতির কারণে দেউন্দি টি কোম্পানিকে ১২ কোটি টাকা ঋণ না দেওয়ার কারণে চা বাগান শ্রমিকরা বাগান কর্তৃপক্ষ উপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে ।
 
  দেউন্দি টি কোম্পানি অধীনে চা বাগান গুলো ঘুরে দেখা যায় , শ্রমিক বকেয়া সাপ্তাহিক মজুরি না পেয়ে খুব কষ্টে যাচ্ছে । যে টাকা মজুরি পায় কিন্তু এ টাকা দিয়ে বাচ্চাদের লেখা - পড়া ও  বাজার খরচ হচ্ছে না । বাজারে সকল জিনিসের মূল্য অনেক বেশি । সাপ্তাহিক মজুরি সঠিক ভাবে না দেয় কিভাবে চলমো। এদিকে লাল চান্দ চা বাগানের ব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান , ১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক হতে প্রতি বছর দেউন্দি টি কোম্পানিকে ঋণ দিয়ে আসছিল । হঠাৎ করে কৃষি ব্যাংক দেউন্দি টি কোম্পানিকে ঋণ দিচ্ছে না ।
 
 অথচ বাগান মালিক পক্ষ থেকে বাগান  কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে ৪০ কোটি টাকা প্রয়োজনে আবেদন করে । এ আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩৭ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর হয়েছে । ৩৭ কোটি টাকা মধ্যে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ধাপে ধাপে  ২৫ কোটি টাকা চট্টগ্রাম কৃষি ব্যাংক মাধ্যমে দিয়েছে। অথচ বাকি ১২ কোটি টাকা এপ্রিল মাসে দেওয়ার কথা থাকলেও চলতি  মে মাস চলছে এখন পর্যন্ত ১২ কোটি টাকা দিচ্ছে না টালবাহানা শুরু করছে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ।
 
 তবে বাগান কর্তৃপক্ষ ২৫ কোটি টাকা নিয়ে স্টাফ ও  শ্রমিকদের প্রচুর টাকা বকেয়া বেতন -ভাতা, ঈদ বোনাস ,  উৎসব পূজা বোনাস, ঔষধ ক্রয়, শ্রমিকদের চিকিৎসা, শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ ফান্ড,   বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল সহ অন্যান্য খরচ পরিশোধ করেছে কিন্তু এর মধ্যে আরো ১৫ কোটি টাকা বাকি রয়েছে দেউন্দি টি কোম্পানির । এতে চা বাগান পরিচালনা করা অচল হয়ে পড়েছে । অপর দিকে গত ২২ মে নোয়াপাড়া চা বাগানের বাগান সভাপতি বাবু কমেট নায়েক সভাপতিত্বে নোয়াপাড়া চা বাগানে দুর্গা মন্ডপে দেউন্দি টি কোম্পানির চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারি , সর্দার , যুবক - নারী  শ্রমিক , ইউপি সদস্য ও চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক জরুরি পরামর্শ সভা আয়োজন করে । শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা বলেন , গত সপ্তাহ সাপ্তাহিক মজুরি দেয় নি বাগান কর্তৃপক্ষ ।   

 চা শ্রমিকরা বলেন , পেটের খিদা চা বাগানে কাজ করতে পারছি না । সাপ্তাহিক বকেয়া   মজুরি বাগান কর্তৃপক্ষ  না দিলে আবার রবিবার সকল চা শ্রমিকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য চা বাগান বন্ধ থাকবে ।চা সংসদের কয়েকজন সদস্য জানান , চা  বাগানের জন্য ঋণ দেওয়া হয় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে । কিন্তু চলমান কৃষি ব্যাংকে জটিলতা থাকায় দেউন্দি টি কোম্পানি এখন অস্তিত্ব সংকটে। কৃষি ব্যাংকে ঋণ না দিলে রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। # 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ